অনুচ্ছেদ রচনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (২০০ শব্দের)

প্রিয় শিক্ষার্থীরা আপনারা কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ রচনা খুঁজতেছেন। যদি কোথাও খুঁজে না পেয়ে থাকেন তাহলে আজকের পোস্টটির মাধ্যমে আপনারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ রচনাটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনি যদি ক্লাস ৯ বা ১০ এর শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উক্ত অনুচ্ছেদ রচনাটি জানা খুবই আবশ্যক।
অনুচ্ছেদ রচনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
আপনারা যদি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অর্থাৎ অনুচ্ছেদ রচনা জানতে চান তাহলে পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালে সংঘটিত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সশস্ত্র সংগ্রাম যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। পাকিস্তানের ২৩ বছরের শাসন-শোষণ মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্র রচনা করেছিল। 

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালির মনোভাব পাকিস্তানের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপারেশন সার্চলাইট এর মাধ্যমে গণহত্যা চালায়।
২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহর মানে ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পরপরই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে অন্যান্যরা সেই ঘোষণাপত্রটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সেক্টর কমান্ডারদের এক সম্মেলনে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। 

১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে ভারত প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ভারতও এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ৩০ লক্ষ শহিদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

শেষ কথা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা আশা করছি আপনারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত রচনা জানতে পারলেন। আশা করছি পোস্টটি ভালো লেগেছে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করুন বন্ধুদের সঙ্গে। আর এ ধরনের রচনা পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

লিংক বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url