মোবাইল ফোন রচনা(১২০০+ শব্দের) - এক বিস্ময়কর আবিষ্কার

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আপনারা কি মোবাইল ফোন রচনা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন বা পড়তে চাচ্ছেন। যদি কোথাও সহজ ভাবে খুঁজে না পান তাহলে আজকের পোস্টটির মাধ্যমে আপনি মোবাইল ফোন রচনা সম্পূর্ণ সহজ ও সাবলীল ভাবে জানতে পারবেন। তাই মোবাইল ফোন রচনাটি পড়তে চাইলে শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।
মোবাইল ফোন রচনা
বর্তমানে মানব জীবনে মোবাইল ফোনের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা এক মুহূর্ত মোবাইল ফোন ছাড়া চলতে পারি না। আর এই মোবাইল ফোন আমাদের জীবনকে অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। মোবাইল ফোন সম্পর্কে রচনাটি পড়তে আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

সূচনা

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। মানব কল্যাণে বিজ্ঞানের অবদান যে কত ব্যাপক তা প্রতিদিনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকে অনুভব করা যায়। বিজ্ঞান তার বিস্ময়কর আবিষ্কারের দ্বারা মানুষের জীবনকে সুখ-স্বাচ্ছন্দে ভরে দিয়েছে। মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দের একটি নতুন ও বিস্ময়কর দিক হলো মোবাইল ফোন। দিন দিন অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে এর প্রয়োগের ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয়তা। যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের প্রভাব এতটাই বেশি যে, একে বাদ দিয়ে স্বাধুনিক জীবন যেন অচল, নিস্তব্ধ।

মোবাইল ফোনের ইতিহাস 

সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল দূরে অবস্থিত মানুষের সঙ্গে বার্তা বা কথা পৌছাতে সক্ষম হন। এরপর মার্কনি ওই প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। আলেকজান্ডার ও মার্কনির সূত্র ধরেই ডেটরয়েট কার-মোবাইলের প্রচলন করেন পুলিশের গড়িতে। ১৮৬৫ সালে স্টকহোমে কার টেলিফোনের ব্যবহার শুরু হয়। 

যার আকার ছিল একটি প্রমাণ সাইজের সুটকেসের সমান এবং ওজন ছিল ৪০ কেজিরও বেশি। কিন্তু নানারকম সমস্যার কারণে এর ব্যবহারিক উপযোগিতা ছিল খুবই কম। পরবর্তী সময়ে এর ক্রম আধুনিকায়ন করা হলে উপযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে মোবাইল ফোনে কম্পিউটার, ইন্টারনেট, গ্লোবাল রোমিং, মাল্টিমিডিয়াসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

মোবাইল ফোনের কার্যপ্রণালি 

মোবাইল ফোন সিস্টেমে একটি শহরকে ছোট ছোট সেল (Cell)- এ ভাগ করা হয়। যার ফলে শহরের মধ্যে ফ্রিকুয়েন্সি বারবার ব্যবহার করা হয়। আর এর ফলে একই সময়ে একই শহরে লক্ষ লক্ষ লোক সেল ফোনে কথা বলতে পারে। প্রতিটি সেল-এ একটি রিলে স্টেশন থাকে যাতে একটি টাওয়ার ও ছোট বিল্ডিং ইকুইপমেন্টসহ সেল ফোন ও রিলে উভয়েই লো পাওয়ারে সিগন্যাল আদান-প্রদান করে। প্রতিটি সেল ১০ বর্গমাইল বা তারও কম-বেশি হতে পারে। প্রতিটি শহর একটি কেন্দ্রীয় অফিস-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়, যাকে বলে মোবাইল টেলিফোন সুইচিং অফিস।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের প্রচলন

১৯৯৩ সিটিসেল কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ মোবাইল স্পেনের জগতে প্রবেশ করে। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মত, সরকার সিটিসেল কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করে। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ছিল সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো, পরে ১৯৯৬ সালে সরকার গ্রামীণ ফোন ও একটেল-এ দুইটি কোম্পানিকে মোবাইল ফোনের লাইসেন্স প্রদান করে। 

প্রতিযোগিতা শুরু হয় মোবাইল কোম্পানিগুলোর মধ্যে। মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে। বর্তমানে আমাদের দেশে রয়েছে ৬টি মোবাইল কোম্পানি। এগুলো হলো- গ্রামীণফোন, রবি (একটেল এর পরিবর্তিত নাম), বাংলালিংক (সেবা টেলিকম এর পরিবর্তিত নাম), টেলিটক ও এয়ারটেল (ওয়ারিদ এর পরিবর্তিত নাম)।

বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের কার্যকারিতা ও রেডিয়েশন 

মোবাইল ফোনকে একটি টু-ওয়ে ট্রান্সমিটার বলা চলে, যা তথ্য গ্রহণ ও প্রদান দুটোই করতে পারে। মোবাইল ফোনে যখন কোনো তথ্য পাঠানো হয় তখন তা থেকে ওয়েব এর মাধ্যমে নিকটবর্তী কোনো স্টেশন গ্রহণ করে নির্দিষ্ট মাত্রায় তা ছেড়ে দেয়। আমাদের দেশে সাধারণত ৮০০-৯০০ মেগাহার্টস এর ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা হয়। 

গ্রামীন, রবি, বাংলা লিংক- ৯০০ মেগাহার্টস এবং পূর্বে সিটিসেল ৮০০ মেগাহার্টস ফ্রিকুয়েন্সি ব্যবহার করতো। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে 4G ইন্টারনেট সেবা চালু হবার পর মোবাইল অপারেটরগুলো সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি ২০২২ সালে বাংলাদেশ 5G নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে পদার্পণ করেছে। ইতোমধ্যে মোবাইল অপারেটরগুলো পরীক্ষামূলকভাবে SG সেবা চালু করেছে।

মোবাইল ফোনের ইতিবাচক দিক 

মোবাইল ফোন যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে। সমগ্র বিশ্বকে হাতের মুঠোয় বন্দি করে দিয়েছে এই মোবাইল ফোন। মুষ্টিবদ্ধ মোবাইলটির কাছে কান পাতলে মুহূর্তেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে নিরবচ্ছিন্ন ভাবের আদান-প্রদান ঘটে। তারবিহীন ও সহজেই বহন করা যায় বলে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা কর্মযজ্ঞে তো বটেই, বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নদীর প্রবাহের মতো সহজ করে দিয়েছে। 

এর চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় আর কী হতে পারে? বিপদে-আপদে, আনন্দ-বেদনায়, হর্ষ-বিষাদে, জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল এখন প্রতিটি মানুষের নিত্যসঙ্গী।তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে মোবাইলের বিকল্প এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহারে কোনো ভেদাভেদ নেই। আর একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোবাতুল কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করছে। মোবাইলে শুধু কথাই হয় না, এসএমএস এর মাধ্যমে করিঙ্কত সংবাদ মুহূর্তেই পৌছিয়ে দিতে পারে। 

প্রিয়জনের সাফল্যে অভিনন্দন প্রেরণ এবং নিজের সুসংবাদ কিংবা দুঃসংবাদ, বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, উৎসবে আমন্ত্রণ নিমন্ত্রণে মোবাইল যুগান্তরকারী ভূমিকা রাখছে। ইদানিং মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের খবর সহজে পাওয়া যায় এবং ঘরে বসে যে কারোর সঙ্গে অনায়াসে যোগাযোগ করা যায়। ইন্টারনেট ব্রাউজিং-এর মাধ্যমে যে কোনে সময় তথ্য পাওয়া যায় মোবাইলের সাহায্যে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল যেন যাদুর কাঠি। যার স্পর্শে হাজার রকমের ভাবের লেনদেন সম্ভব, তেমনি নানারকম নিত্য প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড সহজেই নিষ্পন্ন করা সম্ভব। গান বাজনা, সিনেমা দেখা ইত্যাদি বিনোদনমূলক কাজে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সত্যিই বিস্ময়কর। 
স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ব্যবহার হচ্ছে মোবাইল ক্যামেরা। আজকাল মোবাইলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিলসহ অন্যান্য কাজ সহজেই করে নেয়া সম্ভব হচ্ছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য এবং সরকারের আদেশ খবর গ্রাহকের কাছে পৌছিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করছে। মোবাইলে কথা বলার স্থান নির্বাচন করে এবং কথাবার্তার গতিপরিধি নির্ণয় করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করছে। মোট কথা মোবাইলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে।

মোবাইল ফোনের নেতিবাচক দিক 

মোবাইল যোগাযোগের ব্যবস্থাকে সন্তা ও সহজসাধ্য করলেও এর কিছু ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস প্রভৃতি অসামাজিক কার্যকলাপে মোবাইল ফোন সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মোবাইলের মাধ্যমে সহজেই সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতিকারি চক্রের দ্বারা নাশকতামূলক কার্যক্রম সংঘটিত হতে পারে। মোবাইলের নেটওয়ার্কের কারণে অগ্রিম সংবাদ পেয়ে দুস্কৃতিকারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। মোবাইলের মাধ্যমে দুষ্কৃতিকারীরা হুমকি প্রদান করে কারো মনে ভীতি সঞ্চারও করে থাকে। 

মোবাইল ফোনের কারণে স্কুল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনেক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন মানবদেহের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর রেডিয়েশন মানুষের দেহে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে ব্রেন টিউমারের মতো কঠিন রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। এছাড়া নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ করে, চোখের ক্যাটারেক্ট (Cotaract), রক্তের উপাদানগত পরিবর্তনেও রেডিয়েশন প্রভাব ফেলতে পারে। আজকাল যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেই যেন আমাদের নিত্য পথ চলা। যন্ত্রের সঙ্গে আমরাও হয়ে পড়েছি যান্ত্রিক। যন্ত্র আর যান্ত্রিকতার সঙ্গে দৌড়ে আমরা যেন ক্রমেই হাঁপিয়ে উঠছি। অস্ফুটনভাবে বলছি-আর নয়, আর পারি না, ফিরে যাব প্রকৃতির কোলে। 

যান্ত্রিকতা মানুষকে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য আরাম দিয়েছে বটে, কিন্তু জীবনকে করেছে আবেগশূন্য। জীবনের এই আবেগ রিক্ততা মনুষ্যত্বকেও অনেকখানি নিঃস্ব করে দিয়েছে। মানুষ যেন আর কথা বলতেও নারাজ, আবিষ্কার করেছে রোবট। আজকের দিনে এমন রোবটও আবিষ্কার হয়েছে যে কিনা মানুষকে দেবে সঙ্গ। আর সবুজ শ্যামল পৃথিবীকেও ছেড়ে যেতে দ্বিধা নেই তার, সে পাড়ি দিতে চায় মঙ্গল গ্রহে কিংবা ভিন্নতর কোনো গ্রহে। সে খুঁজছে নতুন গ্রহ। এ কেবলই আবিষ্কারের নেশা, বই কি?

সারকথা/ উপসংহার 

মোবাইলের কিছু ক্ষতিকারক দিক থাকলেও এর উপকারের দিকই বেশি। বিশেষত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এর রয়েছে যুগান্তকারী ভূমিকা। মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের সামাজিকতা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি মানুষের দায়িত্বও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মোবাইলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনকে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে তুলতে পারি, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

লিংক বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url