বিশ্ব যোগাযোগে ইন্টারনেটের ভূমিকা রচনা - বাংলা রচনা

প্রিয় বন্ধুরা আপনারা কি বিশ্ব যোগাযোগে ইন্টারনেটের ভূমিকা রচনাটি পড়তে চান। যদি কোথাও খুঁজে না পান তাহলে আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা ইন্টারনেট রচনাটি সম্পর্কে জানতে এবং পড়তে পারবেন। আপনি যদি ছাত্র হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য রচনাটা হবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকুন।
বিশ্ব যোগাযোগে ইন্টারনেটের ভূমিকা রচনা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা আপনাদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি বিশ্ব যোগাযোগে ইন্টারনেটের ভূমিকা রচনাটি। রচনার সম্পর্কে জানতে পোস্টটি সম্পন্ন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

ভূমিকা

বর্তমান জীবন একান্তভাবেই বিজ্ঞাননির্ভর। বিজ্ঞানের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন জীবনের প্রতিক্ষেত্রেই মানুষের নানা প্রয়োজন মেটাচ্ছে। বিজ্ঞানের যেসব আবিষ্কার মানুষকে সভ্যতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে সহায়তা করেছে তার অন্যতম হলো ইন্টারনেট। 

বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত গতিময়তার এক মাইল ফলক ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির কর্মকাণ্ডকে ইন্টারনেট এমন এক সুতোর বন্ধনে আবদ্ধ করেছে যে, সে সুতো ছিঁড়ে গেলে হয়তো সমগ্র বিশ্বব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়বে।

ইন্টারনেটের পরিচয়

ইন্টারনেট হচ্ছে গতিময়তার মাইল ফলক। বর্তমান বিশ্বের কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী মায়ামটির নাম 'ইন্টারনেটশ। ইন্টারনেটের বদৌলতে সমগ্র বিশ্বের কম্পিউটার ব্যবহারকারীগণ একই বলয়ে আবদ্ধ হতে পেরেছেন। ফলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য কেউ কেউ ইন্টারনেটকে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইন্টানেটের সুবাদে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। 

বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের খবরা খবর অল্প সময়ে স্বল্প খরচে অতি সহজ উপায়ে মানুষ সংগ্রহ করতে পারছে। পক্ষান্তরে কম্পিউটার বিশ্বের বিশাল সম্রাজ্যকে হাতের মুঠোয় এনে ইন্টারনেট তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। লিওনার্দো-দ্যা-ভিঞ্চির চিত্রকর্ম 'মোনালিসা' থেকে শুরু করে যে কোনো বিষয় সম্পর্কে তড়িৎ তথ্য সংগ্রহ করা যায় ইন্টারনেটের সুবাদে।

ইন্টারনেটের ইতিহাস 

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে আছে অসংখ্য কম্পিউটার। যা ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামরিক প্রশাসন গবেষণা কর্ম, ব্যক্তিগত প্রয়োজন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজের গতিকে ত্বরান্বিত করছে তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে স্ব স্ব ক্ষেত্রে সাধারণ নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়া ব্যবহার করে। এভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্কসমূহ একত্রিত হয়ে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কিং প্রক্রিয়া ভূপিত হয়েছে, যা পরিচিতি লাভ করেছে 'ইন্টারনেট' নামে।
আরো পড়ুনঃ বাংলা রচনা চরিত্র
বিভিন্ন দেশের প্রধান প্রধান শহরে স্থাপিত সার্ভারগুলো স্থানীয় নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটারসমূহ একীভূত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উক্ত সার্ভারসমূহ একে অপরের সাথে সমন্বয় সাধন করে ইন্টারনেট প্রক্রিয়াটি তৈরি হয়েছে। ফলে যে কোনো একজন সাধারণ ব্যবহারকারী Modem ও টেলিফোনের সাহায্যে কেবলমাত্র 'লোকাল কল' এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের বিশাল ভুবনে অবগহন করতে পারছেন। এভাবেই ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

ইন্টারনেটের প্রকারভেদ 

সাধারণ ব্যবহারকারীগণ দু'ভাবে ইন্টারনেটের গ্রাহক হতে পারে। প্রথমটি কম্পিউটার বিশ্বে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে। এটি 'অন লাইন ইন্টারনেট' নামে পরিচিত। অপরটি কোনো একটি সার্ভারকে মাধ্যম হিসেবে রেখে কম্পিউটার বিশ্বে বিচরণ যা 'অফ লাইন ইন্টারনেট' বা ই-মেইল নামে পরিচিত।

অন লাইন ইন্টারনেটঃ টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি কম্পিউটারের ইন্টারনেটের অন্য যে কোনো সেবা প্রদানকারীর যুক্ত করার পদ্ধতিকে অন লাইন ইন্টারনেট বলে। এতে ব্যবহারকারীগণ যে কোনো সময়ে অন্য যে কোনো সরবরাহকারীর (Provider) সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন।

অফ লাইন ইন্টারনেটঃ এটি ই-মেইল নামে পরিচিত। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকগণ নিকটবর্তী কোন সার্ভারকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। এ পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম খরচে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগও তথ্য আদান প্রদান করতে পারেন।


ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করেঃ স্বল্প সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। এখানে প্রশ্ন থেকে যায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগের

ক্ষেত্রে এটি কিভাবে সম্ভব? উত্তরে বলছি যে, ইন্টারনেট যোগাযোগ মাধ্যমটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি নয়। ষাটের দশকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর যখন তাদের গবেষণার কাজে ইন্টারনেটের প্রচলন শুরু করে তখন 'ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন' (NSF) ইন্টারনেটের সাপোর্ট- এর দায়ভার গ্রহণ করে। 

এর কোনো মূল কেন্দ্র প্রবন্ধ- নেই। একটি সার্ভার থেকে আরেকটি সার্ভারের সমন্বয়ের ফলে ধীরে ধীরে গড় উঠেছে বিশাল ইন্টারনেট নেটওয়ার্কিং, সাম্রাজ্য। এক সার্ভার থেকে অরেকটি সার্ভারের মাধ্যমে এর কার্যাবলি সম্পাদিত হয় বলে বিভিন্ন দেশের প্রধান শহরে স্থাপন করলেই সমগ্র বিশ্বের সকল সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। 

তাই ব্যবহারকারীগণ কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত টেলিফোনের সাহায্যে নিকটবর্তী সার্ভারে সংযোগ স্থাপন করলেই বিশ্বের সবল সার্ভারসমূহের সঙ্গে আপনার কম্পিউটারটি সংযোজিত হয়ে যাবে।

ইন্টারনেটের ব্যবহার সুবিধা 

নিঃসন্দেহে ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। ইন্টারনেট কেবল আমাদের জীবনকে সহজ করেনি সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট ভূমিকা রাখবের ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের একপ ব্যবহার করে সারা বিশ্বের পাওয়া যাচ্ছে। লেখালেখি ও গবেষণার কাজে অনেক দুষ্প্রাপ্য বই ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এক সময় এসব অতি প্রয়োজনীয় বইয়ের জন্য মানুষকে ছুটতে হত দেশ দেশান্তরে। 

ইন্টারনেটের কল্যাণে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির বই পড়তে পারছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো আগ্রহী পাঠক। ইন্টারনেটের সাহায্যে দেশ বিদেশের নানা প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত লেনদেন সম্পন্ন করা যায়। ই- কমার্সের সুযোগে ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যাচ্ছে কেনাকাটার মত জটিলতর কাজ। জটিল কোনো মামলার ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শের জন্য বিদেশে ছুটে আইনজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার দিন ফুরিয়ে গেছে। 

ইন্টারনেটের সৌজন্যে ঘরে বসেই আইনি পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে নিজ গৃহে অবস্থান করে। টেলি-মেডিসিনের মাধ্যমে রোগের তথ্য দিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট অত্যন্ত সহজ পথের সন্ধান এনে দিয়েছে। ব্যাংকিং খাতেও আজকাল ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেট এছাড়া জীবনের নানা অনুষঙ্গ এমনকি জীবনসঙ্গী খুঁজে নেয়া যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ইন্টারনেট সুবিধাগুলোকে মোটামুটি ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথাঃ
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www):এর দ্বারা অন্যান্য 'কম্পিউটারের তথ্যাদি পড়া ও শোনা যায়।
  • ই-মেইলঃ অন্য কম্পিউটারের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করতে ই- মেইল ব্যবহৃত হয়।
  • নিউজ গ্রুপঃ ইন্টারনেটে প্রকাশিত প্রতিদিনের পত্রিকা পাঠ করা যায় নিউজ গ্রুপের মাধ্যমে।
  • টেলনেটঃ সরাসরি কম্পিউটারে টাইপ করে অন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সাথে তথ্য বিনিময় করা যায় টেলনেটের মাধ্যমে।
  • গোফারঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো ফাইল খুঁজে বের করে তা নিজস্ব কম্পিউটারে কপি করতে গোফার ব্যবহৃত হয়।
  • ফাইল ট্রান্সফারঃ এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ফাইল আদান-প্রদান ও ফাইল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ফাইল ট্রান্সফার।

শেষ কথা

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের এ যুগে ইন্টারনেট পরিণত হয়েছে আধুনিক মানুষের জরুরি অনুষঙ্গে। শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা- বাণিজ্য, কেনাকাটা, বিনোদন, যোগাযোগ ভ্রমণ, জীবনশৈলী সবকিছু হয়ে পড়েছে ইন্টারনেট নির্ভর। বর্তমান বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অধিকাংশ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে যাবে এবং মানুষের জীবন হয়ে উঠবে আরও উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

লিংক বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url