পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ(৩০০+ শব্দের)

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আপনারা কি পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণটি সঠিকভাবে এবং সহজভাবে পড়তে চাচ্ছেন। আপনি নিশ্চয়ই পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি সার্চ করে আজকের পোস্টটিতে এসেছেন। যদি এসে থাকেন তাহলে আজকের পোষ্টির মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষার্থীরা উক্ত ভাবসম্প্রসারণটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ
চলন প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা এবং যারা ভাব সম্প্রসারণ সম্পর্কে জানতে চান তারা শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

ভূমিকা

বর্তমানে পৃথিবীতে পরিশ্রম ছাড়া সৌভাগ্য লাভ করা যায় না। পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন মানুষ তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে। পরিশ্রম আর কঠোর চেষ্টা মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। কেননা এই পৃথিবীতে কেউই সৌভাগ্য নিয়ে আসে না। তাকে পরিশ্রম ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়। যার ফলে মানুষ তার নিজের ভাগ্যকে গড়ে তুলতে পারে। তাই আপনি যদি সৌভাগ্য লাভ করতে চান তাহলে আপনাকেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় এর সাথে চলতে হবে।

 পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণ-কোন কিছু অর্জন করতে হলে নিরলস পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ সাধনার কোন বিকল্প নেই। পরিশ্রম করেই বিরূপ ভাগ্যকে করায়ত্ত করতে হবে। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য শ্রম অপরিহার্য। সৌভাগ্য সকলেরই কাম্য। কিন্তু পৃথিবীতে কোন মানুষই সৌভাগ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। একে অর্জন করতে হয় নিরলস শ্রম ও একনিষ্ঠ সাধনায়। পরিশ্রমই সৌভাগ্যের জন্মদাতা।

ইংরেজিতে প্রবাদ রয়েছে, 'Man is the maker of his own fortune'. সংস্কৃতে একটি কথা আছে- "দৈবনং দেয় মিতি কাপুরুষং বদন্তি" অর্থাৎ, দৈবলব্ধ অর্থের গল্পকাহিনি দুর্বল কাপুরুষের স্বপ্নবিলাস মাত্র। পৃথিবীতে এমন একটি জিনিসও নেই যা শ্রমলব্ধ নয়। নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফলে অর্জিত হয়েছে সমাজ ও সভ্যতার নিরন্তর অগ্রগতি। ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নতির মূলে রয়েছে পরিশ্রম। তাই, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। 

জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য শ্রম অপরিহার্য। শ্রমকে উন্নতির চাবিকাঠি বলা হয়। প্রতিষ্ঠা, খ্যাতি, প্রতিপত্তি, যশ-সুনাম, মর্যাদা এসবের জন্যে প্রয়োজন শ্রম ও কঠোর সাধনা। অন্যদিকে ভাগ্যে বিশ্বাসী লোক অলস এবং শ্রমবিমুখ হয়। 'ভাগ্যে থাকলে পাব'- এই আশায় কেউ বসে থাকলে জীবনে তার কোনো উন্নতি হবে না। ব্যর্থতা এসে জীবনকে অক্টোপাসের মতো ঘিরে ফেলবে। শ্রমবিমুখতা ও অলসতা জীবনে বয়ে আনে নিদারুণ অভিশাপ। ভাগ্যে নেমে আসে হতাশার কালরাত্রি।নিরন্তর ও নিরলস শ্রমে জীবনাকাশ থেকে দারিদ্র্যের ঘনঘটা দূর হয়ে। 

সফলতার নবীন সূর্যালোক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। জীবনে অর্থ, বিদ্যা, যশ, প্রতিপত্তি অর্জন করতে হলে পরিশ্রম করতে হয়। কর্মসাধনার মাধ্যমেই জীবনে সফলতার স্বর্ণদুয়ারে পৌঁছানো সম্ভব। কথায় বলে, "পরিশ্রমে ধন আনে, পুণ্যে আনে সুখ"- এ কথা তর্কাতীতভাবে সত্য। আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে কিংবা তাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা নিরলস পরিশ্রম করেই উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। 

একমাত্র শ্রমশক্তিই তাদেরকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের স্বর্ণদ্বারে পৌঁছে দিয়েছে। তাই বলা হয়, শ্রমেই সফলতা, শ্রমেই সুখ, শ্রমই জীবন।জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য পরিশ্রম অপরিহার্য। যে জাতি যত পরিশ্রমী, সে জাতি তত উন্নত। তাই অযথা ভাগ্যের পেছনে না দৌড়ে, লক্ষ্য স্থির করে সঠিক পদ্ধতিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা উচিত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

লিংক বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url