বাংলা রচনা চরিত্র - চরিত্র নিয়ে উক্তি

প্রিয় পাঠক আপনি যদি শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন নিশ্চয়ই আপনার চরিত্র রচনাটি পড়ার প্রয়োজন পড়ে। কারণ এই রচনাটি প্রায়ই পরীক্ষাতে দেখা যায়। আপনারা যারা চরিত্র রচনাটি সম্পর্কে জানতে চান এবং পরীক্ষায় ভালো করতে চান তাহলে নিশ্চয় আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।
বাংলা রচনা চরিত্র - চরিত্র নিয়ে উক্তি
চরিত্র মানব জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আমাদের চরিত্র বজায় রাখা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য আমাদের চরিত্র রচনা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

ভূমিকা

চরিত্র মানবজীবনের মহিমা। মানুষের কাজকর্মে, চিন্তা-ভাবনায়, আচার-ব্যবহারে ও সমস্ত মানবিক গুণাবলির প্রতিফলন ঘটে চরিত্র। চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ। চরিত্রে মানুষকে পাশবিক আচরণ ও বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক করে। চরিত্র অনুযায়ী গড়ে ওঠে মানুষের ব্যক্তিজীবন। 

তার প্রভাব পড়ে ব্যক্তির চিন্তা ও কর্মে। যথাযথ তা প্রভাবিত করে তার চারপাশের পরিবেশ ও সমাজ জীবনকে। চরিত্রবান লোকদের জন্যই সমাজে শান্তি ও সৌন্দর্য বজায় থাকে। যার চরিত্র নেই, জীবনে গৌরব করার মতো তার কিছুই নেই।

চরিত্র কি

ব্যক্তির আচরণ ও আদর্শগত বৈশিষ্ট্যের নাম চরিত্র। সূক্ষ্মভাবে দেখলে মানুষের চরিত্রের রয়েছে দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্য কেউ সচ্চরিত্র, কেউ দুশ্চরিত্র। যে মানুষের চরিত্র নানা মহৎ ও বিচিত্র সৎ গুণে পরিপূর্ণ, তিনি সচ্চরিত্র। আর কারও চরিত্র লুকানো পশুত্বের আধার হলে সেই চরিত্রই দুশ্চরিত্র। যিনি সৎ চরিত্রের অধিকারী তিনি সমাজের শ্রেষ্ঠ অলংকার। চরিত্রকে জীবনের মুকুট বলা হয়। মুকুট যেমন সম্রাটের শোভা বর্ধন করে, তেমনি চরিত্রও মানবজীবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। 

সততা, নীতিনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সহৃদয়তা, সংবেদনশীলতা, ক্ষমা, উদারতা, ধৈর্য, কর্তব্যপরায়ণতা, গুরুজনে ভক্তি, মানবিকতা ও আত্মসংযম ইত্যাদি সচ্চরিত্রের লক্ষণ। যিনি চরিত্রবান তিনি কখনও নীতি, আদর্শ ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হন না, দুর্নীতি ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তিনি সযত্নে ক্রোধ, অহংকার, বৃঢ়তা ইত্যাদিকে পরিহার করেন। তিনি হন সত্যবাদী, সংযমী ও ন্যায়পরায়ণ। যাবতীয় মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটে বলে চরিত্রবান মানুষ জাতির সম্পদ।

চরিত্রের উপাদান বা বৈশিষ্ট্য 

চরিত্র বলতে সে ধারণা বোঝায় যাতে আছে কতকগুলো গুণের সমাবেশ। সত্য ও ন্যায়ের পথে যে চলে, কাজকর্মে যে আন্তরিকতা দেখায়, সকল মানুষের জন্য যার মনে সহানুভূতি থাকে, অন্যের কল্যাণের জন্য যার আগ্রহের শেষ নেই, এমন ব্যক্তির মাঝে চরিত্র আছে বলে মনে করা হয়। মানবজীবনে সবগুলো গুণের সমাবেশে চরিত্র বেড়ে ওঠে বলে চরিত্রবান লোকই সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্বের মানবজীবনকে আনন্দময় করার জন্য তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

ফুলের সৌরভ যেমন চারদিকে ছড়িয়ে মানব- হৃদয়কে মোহিত করে, তেমনি মহৎ চরিত্রের সৌন্দর্য সকলের মন আকৃষ্ট করে এবং সবার হৃদয়ে একটা শ্রদ্ধা ও মর্যদার আসন লাভ করতে সমর্থ হয়। সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, অন্যায়ের প্রতি অনীহা, প্রলোভনকে জয় করা, নৈরাজ্যকে উপেক্ষা; এসবই চরিত্রের বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচনার যোগ্য।

সচ্চরিত্রের লক্ষণ 

পৃথিবীতে যাঁরা স্মরণীয় বরণীয় হয়ে রয়েছেন তাঁরা। সহোদর সুন্দর, নির্মল ও পরিচ্ছন্ন চারিত্রিক শক্তিতে বলীয়ান। কোনো প্রলোভনই তাদের ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনি চরিত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)। তিমি এমজিীবন সংগ্রাম করে গেছেন অন্যায়, অসত্য ও পাপের বিরুদ্ধে। ইতিহাসের পাতায় যীশুখ্রিয়, বুদ্ধ, নানলের মতো আরো যেসব মহৎ ব্যক্তিত্ব আপন মহিমায় ভাস্বর তাঁরা সকলেই ছিলেন মানবত্রতা, ডিপেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। 

বিদ্যসাগর, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ। শেরে বাংলা, ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মাওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের মতো মানবব্রতী, সমাজব্রতী, দেশশ্বেতী মানুষ তাঁদের উন্নত ও মহৎ চরিত্রশক্তির গুণেই অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। নিতে পেরেছিলেন।

চরিত্র গঠনের উপায় 

চরিত্র গঠনের জন্য প্রত্যেকের নিজস্ব প্রচেষ্টা ও সাধনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রবান হতে হলে লোভ-লালসা ও অসং প্রবৃত্তির নানা কুপ্রলোভন পরিহার করার শক্তি অর্জন করতে হয়। চরিত্রবান মানুষের জীবনাদর্শের আলোয় সুচরিত্র গঠনে এগিয়ে যেতে হয়।

চরিত্র গঠনের সময়

চরিত্র গঠনের কাজ শিশুকাল থেকে মরণের পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে। শিশুকাল ও ছাত্রজীবনই চরিত্র গঠনের উপযুক্ত সময়। তাই চরিত্রের ওপর পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক সামাজিক বিধি ব্যবস্থা প্রভাব বিস্তার করে।

চরিত্র গঠনে পরিবশে ও পরিবারের ভূমিকা

'আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।' শৈশবকালই হচ্ছে চরিত্র গঠনের উৎকৃষ্ট সময়। শিশুকে সৃষ্টিশীল এ কাজে উৎসাহিত করা হলে তাতে সৃজনশীল প্রতিভা বিকশিত হয়। ক প্রত্যেক শিশুই নিষ্পাপ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশুরা স্বভাবতই এব অনুকরণপ্রিয়। তাই শৈশবে শিশুর কোমল হৃদয়ে যা প্রবিষ্ট হয় তা চিরস্থায়ী শ রূপ পরিগ্রহ করে। তাই শিশুর পরিবার যদি সৎ ও আদর্শবান হয় তবে সেও সৎ ও আদর্শবান হতে বাধ্য। চরিত্র গঠনে পরিবেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

সাধারণত পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে চরিত্র গঠিত হয়। পরিবারের বাইরে প্রতিবেশীগণ ও সহচরগণ শিশুদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। পরিবেশ যদি অনুকূল হয়, সুন্দর হয়, তবে জীবনের বিকাশ সুষ্ঠু হবে। পরিবেশ প্রতিকূল হলে মানুষের চরিত্র বিনষ্ট হয়। মন্দ পরিবেশ থেকে ভালো চরিত্রের আশা করা যায় না। তাই পরিবেশ কুলষিত না হয় সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। সৎসঙ্গের প্রভাবে জীবন সুন্দর ও মধুময় হয়, উত্তম চরিত্র গঠিত হয়। তাই অসৎ সঙ্গের দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশ থেকে সর্বদা দূরে থাকতে হবে।

চরিত্র গঠনে মহামানবদের উদাহরণ

পৃথিবীতে আজ যাঁরা স্বীয় কর্মবলে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন বা সমাজের মানুষের মহাকল্যাণ সাধন করে গিয়েছেন, তাঁদের জীবন-কাহিনী পড়লে দেখতে পাওয়া যায়, তাঁরা সকলেই ছিলেন চরিত্রবান এবং আদর্শ মহাপুরুষ। এরূপ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (স), হযরত ঈসা (আ), হযরত ইউসুফ (আ.) হাজী মোহাম্মদ মহসীন, স্যার সলিমুল্লাহ, মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী, সোহরাওয়াদী, এ. কে. ফজলুল হক, মহাত্মা গান্ধী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ মহাপুরুষগণ চরিত্রবলে জগতে অসাধ্য সাধন করে গিয়েছেন।

অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাঁদের অদম্য কর্মশক্তিতে মানবজাতির মহাকল্যাণ সাধিত হু হয়েছে। বস্তুতপক্ষে চরিত্রের মতো কোনো মহৎগুণ পৃথিবীতে নেই। যিনি চরিত্রবান তিনি মানবশ্রেষ্ঠ, সমগ্র মানবজাতির তিনি ভূষণস্বরূপ। তিনি সর্বজাতির কান্ডারী। তাঁদের জীবনের মহিমা স্মরণ করেই কবি চরিত্র নিয়ে উক্তি লিখেছেন-
  • 'এমন জীবন হবে করিতে গঠন
  • মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।'

চরিত্র গঠনের গুরুত্ব

মানুষের জীবনে চরিত্রের মূল্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। কেবল চরিত্রের শক্তিতে মানুষ হয়ে উঠতে পারে বিশ্ববরেণ্য ও চিরস্মরণীয়। কেবল চরিত্রের গুণে মানুষ অমর হতে পারে। মানবজীবনে চরিত্রের মহিমা।
  • সম্পর্কে ধারণা করা যায় একটি ইংরেজি সুভাষিত থেকে।চরিত্র নিয়ে ইংলিশ উক্তি -
  • When money is lost, nothing is lost,
  • When health is lost, something is lost. 
  • When character is lost, everything is lost.
তাই চরিত্রের বিকাশ সাধনই মানুষের হওয়া উচিত।

চরিত্রহীনতার কুফল

চরিত্রহীন মানুষ পশুর চেয়েও অধম। চরিত্রবান না হলে মানুষ ভোগ লালসায় মত্ত হয়ে পড়ে এবং পাপ কাজে লিপ্ত হয়। নামে মানুষ হলেও তখন আর তাদেরকে মানুষ বলা চলে না। জীবনে তারা কারো শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পায় না, সমাজের সকলেই তাদেরকে ঘৃণার চোখে দেখে। 

এ ধরনের লোক মানবজাতির কলঙ্ক। মানবসমাজে তাদের স্থান নেই। বিদ্যাবুদ্ধি, ধনসম্পদ তাদের যতই থাক না কেন, কিছুতেই তারা লোকের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারে না। তাই অসৎ সঙ্গের দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে।

শেষকথা 

পরিভোগপ্রবণ বিশ্বে আজ চারপাশে বাড়ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়। সততা, ন্যায়নীতি হচ্ছে বিপর্যন্ত। চরিত্রের মহিমাকে উপেক্ষা করতে বসেছে মানুষ। লোভ-লালসা, ঈর্ষা-হিংসা, অন্যায়-দুর্নীতি ক্রমেই আচ্ছন্ন করছে ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে। 

হীন স্বার্থ হাসিলের অনৈতিক পন্থায় চালিত হচ্ছে একশ্রেণির লোক। এ অবস্থায় জাতীয় জীবনে চাই চরিত্রশক্তির নবজাগরণ। চরিত্র হারানো প্রজন্মকে শোধরানো কঠিন। তাই নতুন প্রজন্মকে বেড়ে উঠতে হবে চরিত্রের মহান শক্তি অর্জন করে। তাহলেই আমাদের ভবিষ্যৎ হবে মানবিক মহিমায় ভাস্বর।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

লিংক বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url